শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক আবেগঘন দৃশ্যের জন্ম হলো। দীর্ঘ ১২ বছর পর প্রবাস জীবন শেষ করে দেশে ফিরলেন আবুল কালাম আজাদ। বিমানবন্দরের ফটক পেরোতেই তাকে ঘিরে ধরে সন্তানদের কান্না। হাউমাউ করে কাঁদতে থাকা ছেলেমেয়েদের দেখে আশেপাশের মানুষও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। একটু দূরে দাঁড়িয়ে নীরবে চোখ মুছছিলেন তার স্ত্রী।
২০১২ সালে দেশ ছেড়েছিলেন আজাদ মিয়া। তখন তার ছোট মেয়ে ছিল মাত্র চার মাসের শিশু। বড় দুই সন্তানের বয়সও ছিল খুব কম। নানা কাগজপত্রের জটিলতায় এক যুগ ধরে দেশে ফেরা হয়নি তার। এই দীর্ঘ বিচ্ছেদ পরিবারটিকে ভেতর থেকে ভেঙে দিলেও আশা ছাড়েনি কেউ।
দেশে ফিরে দুই মাস পরিবারের সঙ্গে কাটান তিনি। সেই সময়টুকু যেন ছিল উৎসবের মতো। সন্তানরা বাবাকে এক মুহূর্তের জন্যও চোখের আড়াল করতে চায়নি। ঘরজুড়ে ছিল আনন্দ আর আবেগের মিশেল। কিন্তু ফেরার দিন যত ঘনিয়ে আসে, ততই ভারী হতে থাকে পরিবেশ।
বিদায়ের সময় সন্তানদের কান্না যেন বুক ভেঙে দেয় আজাদ মিয়ার। তিনি তাদের আশ্বাস দেন—এবার থেকে প্রতি বছর দেশে আসবেন। কিন্তু সন্তানদের চোখে সেই প্রতিশ্রুতির ভরসা পুরোপুরি ফুটে ওঠে না। শেষ মুহূর্তে ছেলেকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে নিজেও ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়েন তিনি।
সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বিমানে উঠতেই আর নিজেকে সামলাতে পারেননি। বুকের ভেতরে জমে থাকা বছরের পর বছর চাপা কান্না যেন একসঙ্গে বেরিয়ে আসে। প্রবাস জীবনের কঠিন বাস্তবতা আর পরিবারের প্রতি অগাধ টান—এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে তার জীবন যেন এক নিঃশব্দ সংগ্রামের গল্প।