অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিদেশি বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিগুলো নতুন করে যাচাই করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি মনে করেন, এসব চুক্তি বর্তমান সরকারের নীতি ও পরিকল্পনার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ তা খতিয়ে দেখা জরুরি। প্রয়োজনে অসামঞ্জস্যপূর্ণ চুক্তি বাতিল করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীতে আয়োজিত নাগরিক প্ল্যাটফর্মের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি বলেন, নতুন সরকার যদি এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের সময় পিছিয়ে দিতে উদ্যোগ নেয়, তবে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোকেও একইভাবে পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রস্তাব দেন, এই পুরো প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে একটি বিশেষ ‘ট্রানজিশন টিম’ গঠন করা যেতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর জন্য ইতোমধ্যে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সরকারকে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারকে ভাবতে হবে তারা দ্রুত ফল পেতে চায় নাকি দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায়। ১৮০ দিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে প্রয়োজনীয় সময় নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। চলতি অর্থবছরে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন না করার পরামর্শও দেন।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম বড় দুর্বলতা ছিল তারা কোনো সুস্পষ্ট অর্থনৈতিক সংস্কার কৌশলপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি। বিদায়ী পরিকল্পনামন্ত্রী শেষ সময়ে একটি প্রতিবেদন তৈরির কথা বললেও সেটি বাস্তবায়নের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।